Saturday, March 21, 2020

বিশ্ব মহামারী ও ভারতবর্ষ

বর্তমানে COVID-19 অর্থাৎ করোনা ভাইরাস নিয়ে গোটা বিশ্ব সন্ত্রস্ত। ইতালি , চীন স্পেনের মত দেশগুলিতে এটি মহামারীর আকার ধারণ করেছে, প্রবেশ করেছে ভারতেও তবে ভারত এখনও অনেকটা নিরাপদ। কিন্তু যেহেতু বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক উন্নত তাই এই রোগের মোকাবিলা করা পুরোপুরি সম্ভব ।
কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীতে ভারতে ব্রিটিশরাজ যখন  পুরোপুরি কায়েম সেই সময় থেকে ভারত বহুবার অনেক রকম মহামারীর সম্মুখীন হয়েছে ।সব চেয়ে বেশী হয়েছে কলেরা, প্লেগের মতো রোগ গুলির।

কলেরা
ব্রিটিশ রাজত্বে প্রথমবার 1817 খ্রিস্টাব্দে কলেরা মহামারী রূপে দেখা দেয় এদেশে। 23শে আগস্ট 1817 জশোরের এক Civil Surgeon এর কাছে প্রথম কলেরা রোগীর রিপোর্ট আসে। কিন্তু এই সময় আনুমানিক কত লোক আক্রান্ত ও মারা গেছিলেন তার কোনো হিসাব মেলে না কারণ তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় 1860 খ্রিস্টাব্দের পরবর্তী সময় থেকে। এই সময় প্রবল বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতি ভয়ংকর করে তুলেছিল।
দ্বিতীয়বার কলেরার প্রকোপ দেখা দেয় 1829 সালে । 1826 সাল থেকেই এর প্রাদুর্ভাব ঘটতে শুরু করে এবং এই বাংলা থেকেই এর সূচনা হয় । এই জীবাণু নদী মাধ্যমে বাহিত হয়ে উত্তর ভারতে ছড়িয়ে পড়ে দিল্লি, পাঞ্জাব প্রভৃতি অঞ্চলে ভীষণ ভাবে এর প্রকোপ দেখা যায় তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই রোগ চীন দেশেও ছড়িয়ে পড়ে।
তৃতীয় বার কলেরার প্রাদুর্ভাব হয় 1852-1860 এই সময় । এই সময় এটি পৃথিবীর বাকি দেশ গুলোতে ছড়ায় ও বিশ্বব্যাপী এর প্রকোপ দেখা যায় । পারস্য, আরব , রাশিয়া তে এটি ছড়াতে থাকে। এইবার ভারতে এর প্রভাব দেখা যায় নি পরে অবশ্য বাংলার কিছু জায়গায় এটি ছড়ায়।
1863 আবার কলেরার প্রকোপ দেখা যায় । তবে শোনা যায় 1865 সালে ভারত থেকে মক্কায় যাওয়া হজ যাত্রীদের থেকে এই রোগ ছড়ায়, অনেকে এটি মানতে নারাজ । আবার 1867 সালের হরিদ্বার এ হওয়া কুম্ভ মেলা থেকেও সেই সময় উত্তর ভারতে কলেরা হয় বলে মনে করা হয় । 1877 সালে মাদ্রাজে কলেরার কারণেই বছরে 10% মানুষ মারা যায় ।
1881-1889 এই সময় পঞ্চমবার কলেরা দেখা দেয় তবে এবারের প্রকোপ আগের থেকে অনেক কম হয় । কলকাতা ও ঈজিপ্ট এর প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ করে Robert Koch প্রমাণ করেন যে মানুষের মুখের মাধ্যমে এটি সংক্রামিত হচ্ছে । এটি এই সময় পারস্য ,আরব , রাশিয়া ও ইউরোপে ও ছড়িয়ে পড়ে।
1899 সালে ষষ্ঠবার আবার কলেরার প্রাদুর্ভাব হয় ।
বোম্বে, কলকাতা , মাদ্রাজে এটি ছড়িয়ে পড়ে । এর আগে ভিব্রিও কলেরির O1 serotype এশিয়াতে কলেরার জন্য দায়ী হলেও এবার কিন্তু ভিব্রিও কলেরির non-O1 serotype এর কারণ হয়। এটি এবার USA সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।এই পর্যায়ে এই রোগের প্রভাব 25 বছর অবধি চলে।

প্লেগ
1896 সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ এই রোগ দেখা যায় ব্রিটিশ অধ্যুষিত বোম্বেতে । এই সময় বোম্বেতে সামাজিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল।
ব্যবসাবাণিজ্য বৃদ্ধি র সাথে সেই অঞ্চলে জনসংখ্যা
ও বাড়তে থাকে । সেখানে প্লেগের থেকে বাঁচার বিভিন্ন প্রচার চালানো শুরু হয় । কিন্তু বস্তি অঞ্চল গুলোকেই প্লেগের উৎস বলে ধরা হয় । এর ফলে প্রচুর মানুষকে শহর ছাড়তে বাধ্য করা হয় ।
1994সালে সুরাট এও প্লেগ দেখা যায়  যা ভারতের বেশ কিছু শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়াও 2002 সালে সিমলা হিমাচল প্রদেশে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয় ।

SARS(Severe Acute Respiratory Syndrom)
এটিই প্রথম সংক্রামক মহামারী । 2003 চীনের গুয়ানডঙ প্রদেশ থেকে এটি ছড়িয়ে পড়ে। 2002 সালের নভেম্বর থেকে এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায় । ইউরোপ সহ পৃথিবীর 26 টি দেশে এর প্রভাব পড়ে। 8000 জন আক্রান্ত ও 812 জনের মৃত্যু হয় 8 মাসের মধ্যে ।

কলেরা প্লেগ ছাড়াও দেশ বিভিন্ন সময় Dengue , N1H1 Flue , Nipah virus , চিকুনগুনিয়া , Swine Flue র মতো রোগের সম্মুখীন হয়েছে ।

এরপরেও মানুষের সচেতনতা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি আমাদের আরো শক্তিশালী করেছে রোগের থেকে বাঁচার জন্য । আশা করা যায় ভবিষ্যতেও আমরা সব বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারব।

Picture Source: Google
Data source: Google

No comments:

Post a Comment

একদিনের ক্রিকেটে প্রথমবার ফিল্ডিং এর নিয়ম প্রবর্তন

বর্তমানে মহামারীর গ্রাসে গোটা বিশ্ব। Lockdown চলছে দেশ জুড়ে। প্রভাব পড়েছে ক্রীড়া জগতেও , অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতা পিছিয়ে গেছে এক বছর। আ...